হালাল ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং- ডালিয়ার অনুপ্রেরণামূলক গল্প

আমি ডালিয়া আক্তার, লিডিং লাইটের ৩৭তম ব্যাচের স্টুডেন্ট।
২০২৩ এর প্রথমে আমি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে পারি এবং রিজিকের সন্ধানে দেরি না করে, একটা আইটিতে ভর্তি হই।
ভর্তি ফি ছিল ৮০০০ টাকা সেটা সম্পূর্ণ আমার টিউশনি আর কেক বিক্রির করে জমানো টাকা ছিল। প্রথম প্রথম আমি আশা হারায়নি ক্লাস করেছি, কিন্তু কয়েকটা ক্লাস হতে না হতেই আমার বুঝতে বাকি থাকেনা আমি তাবিজ বিক্রেতা*দের ফাঁদে পড়ছি। তখন ছিল আমার জীবনের চরম কঠিন দিন।
স্বামী দেশে চলে আসছে শূন্য হাতে, এসে দেখে তার ৮ বছরের কষ্টের বিনিময়ে ৮ হাজার টাকাও নেই। আহা! সে কঠিন দিনের বর্ণনা করতে গেলে ইতিহাস রচনা হয়ে যাবে।
কি করবো আমি! অসহায় হয়ে পড়ি, তারপর আমার অসুস্থতা লেগেই থাকে, ২ টা বছর সুস্থ জীবন পাইনি। এর মাঝে ফ্রিল্যান্সিং আমার মাথা থেকে আউট হয়ে গেলেও একদিন "কিছু করতে চাই" গ্রুপের সন্ধান পাই একটা গ্রুপে। একজন আপু যে আল্লাহর তরফ থেকে আমার রিজিকের উসিলা হয়ে আসছিল, আমি তার কমেন্ট দেখা মাত্রই কিছু করতে চাই - গ্রুপে জয়েন হই।
তারপর লিডিং লাইট + গ্রুপে প্রায় ৩/৪ মাস এক্টিভ থাকার পর একদিন ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠেই ফেসবুকে আসলে ব্যাচ ৩৭ এ ভর্তির আপডেট চোখে পড়ে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে কারণ ওই সময় আমার হাতে ৫০০ টাকাও নাই৷ কিভাবে ভর্তি হবো, তখন ছিলাম ননদের বাড়ি।
সেদিন ই বাসায় ফিরে আমার কেকের বিজনেসে অফার দেয়৷ আল্লাহ তায়ালা আমাকে রিজিকের বন্যা দিয়ে দিসিল আমার বিজনেসে মাত্র ২ দিনেই আমি ৫০০০ টাকা ইনকাম করতে সক্ষম হই৷ এবং কোন কিছু চিন্তা না করেই ভর্তি হয়ে যাই।
তার আগে একটা কথা বলি ব্যাচ ৩৪ এর Sumaiya Akter Nedha আপু আমাকে বলেছিল, আপু তুমি লিডিং লাইটে ভর্তি হলে কিছু পারো আর না পারো অন্তত নিজের বিজনেস গ্রো করতে কারোর হেল্প প্রয়োজন হবে না।
আমি প্রথম ক্লাইন্ট পাই মালদ্বীপ থেকে ভ্লগ পেইজ অপটিমাইজেশন + ফলোয়ার গ্রো এর। তার পর একে একে ইতালি, মালয়েশিয়া, ইউএসএ থেকেও কাজ পাই।
যখন দেখতাম আমার থেকে অনেক বিগিনার আপুরা হালাল হারাম মেইনটেইন না করে অনেক ভালো আর্নিং করতেছে তখন ভাবতাম আমি কি আসলেই পারবো! তখন আমার হাসবেন্ড ধমক দিয়ে বলতো এমন চিন্তা আনবা না তুমি নিশ্চয়ই পারবা ইনশাআল্লাহ।
বর্তমানে আমি ৫ টা বিজনেসের পারমানেন্ট এডস এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করছি সবগুলোই হাালাল এডস চালাচ্ছি।
অনেক ক্লাইন্ট আমাকে বড় বাজেটের এডসের কাজ দিতে চেয়েছি কিন্তু যখন বলেছে মিটে আসেন, আমি পর্দার কথা জানালে তারা আর রেসপন্স করেননি, কিন্তু আমি হতাশ হয়নি। রিসেন্টলি আমি একটা স্কীন কেয়ার প্রোডাক্টের ফেসবুক পেইজ + ওয়েবসাইট ম্যানেজ করছি, সেই ক্লাইন্ট কে মিটে আসতে পারবো না, বা কলে কথা বলবো না হারাম পণ্যের এডস দিবো না, এটা জানানোর পর আজ ৩ মাসের মধ্যে সে নিজেও একটা ভয়েস শেয়ার করিনি বরং আমার প্রসংসা করেছে৷
প্রতিনিয়ত মনিটাইজেশন রিলেটেড কাজ রিজেক্ট করেছি, হারাম ডিজাইন করিনি কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ আমার আর্নিং থেমে নেই।